আল্লাহ মেঘ দে পানি দে


গ্রীষ্মের দিনে সূর্য্যের তাপদাহে, বাংলা অঞ্চলে খরা-দুর্যোগের ঘটনা নিয়মিতই ঘটে। পানির অভাবে শুষ্ক খাল-বিল-মাঠ, প্রাণের মাঝে পানির জন্য যে আকুতি জাগায় তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এ গানটি। বাংলার কৃষি সমাজের জীবন-যাপন ও বেঁচে থাকার সাথে মাটি-পানি বা প্রতিবেশের যে সম্পর্ক তা এ গানের মাধ্যমে প্রকাশ হয় বলে বাংলার কৃষি সংস্কৃতিতে এই গানটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

গীতিকার- পল্লী কবি জসীম উদ্দিন।

মূল শিল্পী – আব্বাসউদ্দিন আহমেদ। 

গানের কথাঃ

বেলা দ্বিপ্রহর, 
ধূ ধূ বালুচর 
ধূপেতে কলিজা ফাটে, 
পিয়াসে কাতর

আল্লাহ মেঘ দে; আল্লাহ মেঘ দে 
আল্লাহ মেঘ দে ,পানি দে ,ছায়া দে রে তুই, 
আল্লাহ মেঘ দে।

আসমান হইল টুডা টুডা  
জমিন হইল ফাডা ।। 
মেঘ রাজা ঘুমায়া রইছে 
মেঘ দিব কন কেডা।

ফাইট্টা ফাইট্টা রইছি যত 
খালা বিলা নদী।। 
পানির লাইগ্যা কাইন্দা ফিরে 
পঙ্খি জলদি

হালের গরু বাইন্দা  
গিরস্ত মরে কাইন্দা।। 
খাওয়ার পানে ফডো ফডো  
নারীনাংটী গরে

কপোত কপোতি কান্দে 
খোপে তে বসিয়া।। 
শুকনা ফুলের কলি পড়ে 
ঝরিয়া ঝরিয়া

আব্বাস উদ্দীন আহমেদের কন্ঠে ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে’

গানটি নিয়ে একটি জনশ্রুতিঃ

আব্বাসউদ্দিন আহমেদ, ১৯৬২ সালে বার্মায় অনুষ্ঠিত ত্রক্ষীয় সঙ্গীত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বার্মায় তখন অনেকদিন যাবৎ খরা চলছিল। গরমে মানুষের প্রাণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। আব্বাসউদ্দিন আহমেদ, অন্যান্যদের সাথে মঞ্চে উঠলেন গান গাইতে উঠেছিলেন। তখন গান ধরলেন- ‘আল্লা মেঘ দে পানি দে, ছায়া দে রে তুই, আল্লাহ মেঘ দে’ এ গান শেষ হতেই মুষল ধারে বৃষ্টি নেমেছিল বলে কথিত আছে।

অনুসন্ধান

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages

আর্কাইভ

বায়ুদূষণের মাত্রা

সর্বাধিক পঠিত

Sorry. No data so far.