কালবৈশাখী

একপ্রকার বজ্রঝড়, যা বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম দিক থেকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এটি স্থানীয়ভাবে কালবৈশাখী নামে পরিচিত। কালো রঙের মেঘ ও এর ধ্বংসাত্মক প্রকৃতির কারণে এটি কালবৈশাখী নামে আখ্যায়িত।কালবৈশাখীর বায়ুর গতিবেগ ৪০-৬০ কিমি হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে ১০০ কিমি ও হয়। সাধারণত গ্রীষ্ম ঋতুর শুরু থেকে এই ঝড়ের আবির্ভাব হয়। কোন এলাকার ভু-পৃষ্ঠ উত্তপ্ত বা অত্যাধিক তাপমাত্রার কারণে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে এই ঝড়ের জন্ম হয়।

উত্তপ্ত ও অস্থির বায়ু ঊর্ধ্বমুখী হয়ে কিউমুলাস মেঘ সৃষ্টি হয়, এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে কিউমুলাস মেঘ উলম্বভাবে কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সৃষ্টি করে বজ্রঝঞ্ঝা সৃষ্টি করে কালবৈশাখীর জন্ম দেয়। এই ঝড়ের সাথে অন্যান্য সাধারণ ঝড়ের পার্থক্য হল এই ঝড়ে অনবরত বজ্রপাত হয় ও বিদ্যুৎ চমকায়।

মার্চ মাসের মধ্য হতে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের তাপমাত্রা জলবায়ুগত কারণে বৃদ্ধি পায়। এসময় বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে আদ্র ও উষ্ণ আবহাওয়া কালবৈশাখীর অপরিহার্য শর্ত।বাংলাদেশে কালবৈশাখীর  সৃষ্টির কারন দক্ষিণ-পূর্বদিকের আদ্র ও উষ্ণ বায়ু যা পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্কশীতল বায়ুর মুখোমুখি হয়ে বিপরীতধর্মী দুই বায়ু প্রবাহ মুখোমুখির কারণে কালবৈশাখী সৃষ্টি হয়ে থাকে।

কালবৈশাখী জীবনচক্রকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথাঃ ১.কিউমুলাস বা ঘনীপুঞ্জীভবন পর্যায়  ২.পূর্ণতা পর্যায় ৩ .বিচ্ছুরণ পর্যায়। কালবৈশাখী ৩০ থেকে তিব্রতা পর্যায় হ্রাস পেতে থাকে এবং বিচ্ছুরণ পর্যায়ে প্রবেশ করে। কালবৈশাখীর সাথে শিলাপাত একটি সাধারণ ঘটনা। বিদ্যুৎ ও বজ্রপাতও একটি সাধারণ ঘটনা। এটি মূলত বিকেলের শেষের দিকে ঘটে থাকে। এই মহাঝড়ের স্থায়িত্বকাল সল্পতর হলেও

এটি কখনো কখনো এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়।