খরা

খরা দীর্ঘকালীন শুস্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারনে ঘটে থাকে।খরার ফলে পানি, গবাদিপশুর খাদ্যসঙ্কট দেখা দেয়।অনেক সময় খরার রেশ ধরেই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। খাবারপানি, চাষাবাদ ও পশুপালনের ক্ষেত্রে সরাসরি বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য খরা একটি বড় সমস্যা। প্রাচীনকাল থেকে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানবজাতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে এসেছে। প্রাচীনকালে মানব দেশান্তরের অন্যতম কারণ এই খরা। খরার সময় খরাপীড়িত অঞ্চল তপ্ত হয়ে উঠে  এবং কুয়া ও খালবিল শুকিয়ে ব্যবহার্জ পানির অভাব হয়। জলস্তর নিচে নেমে যায় ও নদীপ্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং মাটির আদ্রতায় ঘাটতি দেখা দেয়।খেতের ফসল শুকিয়ে শস্য বিপর্যয় ঘটে। ১৯৯৯-২০০০ সালে ভারতের ১২টি রাজ্যের খরা ছিল গত শতাব্দীতে এ অঞ্চলে সংঘঠীত সবচেয়ে ভয়াবহ খরা।

খরার সময় সুনির্দিষ্ট লক্ষণ হচ্ছে বাঁশ ও সুপারি গাছের মাজা জ্বলে যাওয়া অর্থাৎ এদের পত্ররাজি হারিয়ে যায় এবং বাতাসে আদ্রতার অভাবে নতুন পাতা পিঙ্গলবর্ণ ধারণ করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির না হওয়ার কারনে সেচ দিয়ে পানির যোগান না দিলে গাছ মরে যায়। খরার প্রকোপে ফসলের ক্ষতি ১০% থেকে ৭০% পর্যন্ত হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম বরেন্দ্রভূমি অঞ্চলে খরার ঘনঘন প্রাদুর্ভাব সেই এলাকার একটি বড় বৈশিষ্ট্য। এসব এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমান ১.৯৭১ মিলিমিটার যা দেশের অন্যান্য অংশের থেকে তুলনামুলকভাবে কম।

আবহাওয়াবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণে খরাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় যথাঃ স্থায়ী খরা, যা শুষ্ক মৌসুমের বৈশিষ্ট্য; মৌসুমি খরা, যা বর্ষা ও শীত মৌসুমে সাধারণ  নিয়মের বাইরে ঘটে থাকে, এবং আপতকালিন খরা যা অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারনে ঘটে থাকে। বাংলাদেশে পরের দু’ ধরনের খরা বেশি ঘটে থাকে।

বাংলাদেশে সাধারনত বর্ষার আগে বা বর্ষার পড়ে খরা দেখা দেয়। বিগত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২০ বার খরা হয়েছে। বাংলাদেশের জলীয় ও জলবায়ুগত কারনে আদ্র মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ও শুষ্ক মৌসুমে কম জলসরবরাহ খরা পরিবেশের সৃষ্টি করে। মানবসৃষ্ট কারনে এই পরিস্থিতি আরও অবনতিশীল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ৫৮ টি নদী অর্থনৈতিক ও গার্হস্থ্য উদ্দেশে জলকাঠামো নির্মাণের কারণে এবং উজান এলাকায় (ভারতের অংশে) পানি প্রত্যাহারের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এর অন্যতম কারন হল বাংলাদেশের নদীর উজানের অংশে ভারতের যত্রতত্র বাধ নির্মাণ।

গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা বাধ, পূর্ণভবা ও তিস্তা নদীতে বাধ ও জলকাঠামোর প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলে পানি সল্পতা ছাড়াও ভূগর্ভস্থ পানি পুনঃসঞ্চার ব্যাহতের কারণে বাংলাদেশের দুই অঞ্চলে নদীগুলো মারা যাচ্ছে।