গ্রীষ্মকালীন খনার বচন

Share

পূর্ব আষাঢ়ে দক্ষিণা বয়,
সেই বৎসর বন্যা হয়

চৈত্রে দিয়া মাটি
বৈশাখে কর পরিপাটি ॥

জ্যৈষ্ঠতে তারা ফুটে
তবে জানবে বর্ষা বটে ॥

চৈত্রেতে থর থর
বৈশাখেতে ঝড় পাথর
জ্যৈষ্ঠতে তাঁরা ফুটে
তবে জানবে বর্ষা বটে ॥

জল খেয়ে ফল খায়।
যম বলে আয় আয় ॥

আম খেয়ে খায় পানি।
পেঁদি বলে আমি ন জানি ॥

চৈতে গিমা তিতা,
বৈশাখে নালিতা মিঠা,
জ্যৈষ্ঠে অমৃতফল আষাঢ়ে খৈ।
শায়নে, দৈ।
ভাদরে তালের পিঠা,
আশ্বিনে শশা মিঠা,
কার্তিকে খৈলসার ঝোল,
অগ্রাণে ওল,
পৌষে কাঞ্ছি, মাঘে তেল,
ফাল্গুনে পাকা বেল ॥

আম লাগাই জাম লাগাই
কাঁঠাল সারি সারি-
বারো মাসের বারো ফল
নাচে জড়াজড়ি ॥

সকল গাছ কাটিকুটি
কাঁঠাল গাছে দেই মাটি ॥

শাল সত্তর, আসন আশি
জাম বলে পাছেই আছি ॥

বৎসরের প্রথম ইশানে বয়
সে বৎসর বর্ষা হবে খনার কয় ॥

শুনরে বেটা চাষার পো ॥
বৈশাখ জ্যৈষ্ঠে হলুদ রো ॥

জ্যৈষ্ঠে খরা আষাঢ়ে ভরা।
শস্যের ভার সহে না ধরা ॥

বৈশাখের প্রথম জলে।
আশুধান দ্বিগুণ ফলে ॥

চৈতের ধূলি, বৈশাখের পেঁকি,
ধান হয় ঢেঁকি ঢেঁকি ॥

জ্যৈষ্ঠে খরে আষাঢ়ে ঝরে।

কেটে মেড়ে গোলা ভরে।।

অর্থঃ জ্যৈষ্ঠ মাসে বৃষ্টি না হলে, আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হলে ধানের ফলন অধিক হয়।

জ্যৈষ্ঠে শুখা আষাঢ়ে ধারা।

শস্যের ভার সয় না ধরা।।

অর্থঃ জ্যৈষ্ঠ ও মাঘে যথাক্রমে প্রচণ্ড গরম ও শীত জোত-জমির ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

ফাল্গুন চৈত্রে গর্ত করি।

গুয়ে গোবরে রাখ ভরি।।

বৈশেখ জ্যৈষ্ঠের বৃষ্টি পাতে।

বাঁশের চারা দিবে পুঁতে।।

অর্থঃ ফাল্গুন-চৈত্রে গর্ত করে মানুষের বিষ্ঠা ও গোবর দিয়ে পূর্তি করে রাখতে হবে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে বৃষ্টি হলে গর্তে বাঁশের চারা লাগিয়ে দিতে হবে। 

বৈশাখ জ্যৈষ্ঠে করবে গাতা।

গুয়ে গোবরে দিয়ে জাতা।।

কার্তিক মাসে বাঁশের চারা।লাগাইয়া দিয়া করবে সারা।।

গোঁড়ায় পানি লাগবে না।

লাগলে চারা বাঁচবে না।।

অর্থঃ বৈশাখ জ্যৈষ্ঠে গর্ত করে গু গোবরে পুরে রাখতে হবে। চারার গোঁড়ায় পানি দেয়া নিষ্প্রয়োজন। বাঁশের চারায় পানি দিলে তা বাঁচে না।

চ’তে কাদা ব’শাখে শীত।

বর্ষা হবে কদাচিৎ।।

অর্থঃ যে বৎসর চৈতে বর্ষণ হয় এবং বৈশাখ মাসে শী পড়ে, তবে নতুন বছরে কদাচিৎ বর্ষণ হবে।

পৌষ গরমি বোশেখ জাড়া।

প্রথম আষাঢ়ে ভরে গাড়া।

খনা বলে শুন হে স্বামী।

শ্রাবণ ভাদরে হবে না পানি।

অর্থঃ যে বৎসর পৌষ মাসে আবহাওয়া উষ্ণ  এবং বৈশাখ মাসে শীত বোধ হয় এবং আষাঢ় মাসের প্রথমেই অধিক বৃষ্টিতে নালা খাল ভরে যায়, সে বৎসর শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে অনাবৃষ্টি।

চৈতে থর থর।

বৈশাখে ঝড় পাথর।

জ্যৈষ্ঠে তারা ফুটে।

তবে জানবে বর্ষা বটে।

অর্থঃ যে বৎসর চৈত্র মাসে শীত এবং বৈশাখ মাসে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়, আর জ্যৈষ্ঠ মাসে মেঘশূণ্য থাকে, সে বৎসর নিশ্চয়ই সুবর্ষা হবে। চৈত্রে মর্মর ও চৈত্রে খরখর এ দুটো পাঠান্তরকে অনুসরণ করলে এর অর্থ হয়, চৈত্রে খররোদ হলে বৈশাখে শিলাবৃষ্টি ও ঝড় হয়।

বৈশাখ জ্যৈষ্ঠতে হলুদ রো’।

দাবা পাশা ফেলিয়া থো’।

আষাঢ়ে শ্রাবণে নিড়ায়ে মাটি।

ভাদরে নিড়ায়ে করবে খাটি।

এর অন্যথা পুঁতলে হলদি।

পৃথিবী বলে তাতে কি ফল দি’।

অর্থঃ জ্যৈষ্ঠ-বৈশাখে হলুদ রোপণ করে আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্রে উত্তমরূপে জমি নিড়িয়ে দিতে হয়। অন্যথায় ফলন হয় না। এ বচনে তৎকালীন সামাজিক অবস্থার একটা চিত্র ফুটে উঠেছে। দাবা পাশা খেলা কৃষকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছিল, যার জন্যে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

জ্যৈষ্ঠে খরে আষাঢ়ে ঝরে।

কেটে মেড়ে গোলা ভরে।।

অর্থঃ জ্যৈষ্ঠ মাসে বৃষ্টি না হলে, আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হলে ধানের ফলন অধিক হয়।

Share

অনুসন্ধান

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages

আর্কাইভ

বায়ুদূষণের মাত্রা

সর্বাধিক পঠিত

Sorry. No data so far.