গ্রীষ্মকালের রাগ- দীপক


রাগ দীপকের স্রষ্টা- মিয়া তানসেন (১৫০৬ – ১৫৮৯) উত্তর ভারতের একজন বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ। যে ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সাথে মানুষ পরিচিত তার অন্যতম – তানসেন। যন্ত্র সঙ্গীতে তানসেনের অবদান চিরস্মরণীয়। তিনি মুঘল বাদশাহ আকবরের রাজদরবারের নবরত্নের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। শিশুকালে তার নাম ছিল-তনু মিস্ত্র।
তার গুরু ছিলেন বৃন্দাবনের তৎকালীন বিখ্যাত সঙ্গীত শিক্ষক- হরিদাস স্বামী। মাত্র ১০ বছর বয়সে তার মেধার ক্ষমতা প্রকাশিত হয়। তার মাঝে সংগীত প্রতিভার সন্ধান পেয়ে হরিদাস স্বামী তাকে বৃন্দাবনে নিয়ে যান। বৃন্দাবনেই তানসেনের সংগীত সাধনার মূল ভিত রচিত হয়। বিভিন্ন রাগ চর্চার মাধ্যমে তিনি পণ্ডিত শিল্পীতে পরিণত হন। তার সংগীতের ক্ষমতা নিয়ে লোকমুখে নানারকম অলৌকিক ঘটনার মিথ রয়েছে। মৃত্যুবরণ করার পরে গোয়ালিয়রের মহান সুফি সাধক শেখ মুহাম্মদ গাউসের সমাধি কমপ্লেক্সেই মিয়া তানসেনকে সমাহিত করা হয়েছিল।

রাগ দীপক নিয়ে একটি লোকমুখে প্রচলিত গল্প হলো, একদিন তানসেন জঙ্গলে বসে পাখির ওড়াওড়ি দেখতে দেখতে খেয়াল করলেন, কিছু পাখির শিসের শব্দে সন্ধ্যাবেলা জঙ্গলের বিভিন্ন গাছের ডালে আগুন ধরে গেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি রাগ দীপক তৈরি করেন। যখনই এই রাগ গাওয়া হোতো আশেপাশে আগুন ধরে যেতো। এমন একটা গল্প আছে, বাদশাহ আকবরের দরবারে এই রাগ গাওয়া শুরু করলে, দরবারে রাখা মোমে আগুন জ্বলে ওঠে, এবং তা সারা দরবারে এমনকি তানসেনের শরীরেও ছড়িয়ে পরে। সবাই নানাদিকে ছোটাছুটি করছিল, তানসেন নিজের বাড়ির দিকে ছুটে যান। সেখানে পূর্বেই তিনি নিজ কন্যা ও গুরুকন্যাকে মেঘমল্লার রাগ শিখিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা তখন মেঘমল্লার রাগ গাইতেছিলেন আর এর ফলে বৃষ্টি নেমে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেছিল। তানসেনের সংগীতের ক্ষমতা নিয়ে লোকমুখে এরকম বিভিন্ন গল্প ছিল।


Krishna Gundopant Ginde (26 December 1925 — 13 July 1994)ছিলেন একজন ভারতীয় ধ্রুপদী গায়ক, শিক্ষক, কম্পোজার এবং পন্ডিত।
রাম চতুর মল্লিক,
“The Mallik Family – Darbhanga Dhrupad Collection Vol. 6” এলবাম থেকে রাগ দীপক গানটি নেয়া হয়েছে।
দীপক রাগের নজরুল গীতি।

অনুসন্ধান

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages

আর্কাইভ

বায়ুদূষণের মাত্রা

সর্বাধিক পঠিত

Sorry. No data so far.