বৈশাখের কবিতা

বৈশাখের রুদ্র জামা

মুস্তফা আনোয়ার

বৈশাখের রুদ্র জামা আমাকে পরিয়ে দে মা

আমি তোর উজাড় ভাঁড়ারে বারুদের গন্ধ বুক ভরে নেব।

এখন তোর ভীষণ রোগ, গায়ে চুলো গন্ গন্ করছে,

আমাকে পুড়িয়ে দিলি মা।

নাৎসী হাওয়া তোর

পিদিমে ফুঁ দিতেই, চপ চপ করে ভিজে গেল মুখ

এতো রক্ত কেনরে মা, এত রক্ত কোন দিন আমি দেখিনি- দেখিনি মা।

আমি জানি আমার শার্টের রক্তের দগদগে চিহ্ন

তোর পতাকার বুকের ভিতর দাউ দাউ জ্বলছে

আমি রক্তের প্রতিশোধ নেব মারে

রক্তের বদলে আমি রক্ত শুষে খাব।

যেন আমি এক রক্তপায়ী রাগী ঈশ্বরের

গরগরে কন্ঠস্বর হয়ে গেছি।

ঘর নেই, বোন নেই, ভাই নেই, নেই নেই,

মারে আমার কিছুই নেই-শুধু রাইফেল

দাঁতে দাঁত চেপে খুঁজে ফেরে শত্রুর খুনি ছাউনি,

লোভাতুর হাত শুধু চায় শত্রুকে হত্যার

হত্যার, হত্যার এই বিনিদ্র রক্তাক্ত উল্লাস।

এবার নববর্ষের দেয়া তোর বৈশাখী জামায়,

ওদের রক্তে ভিজিয়ে তোর পায়ে এনে দেবো মারে।

বৈশাখের রুদ্র জামা আমাকে পরিয়ে দে মা।

 

 

প্রলয়োল্লাস

কাজী নজরুল ইসলাম 

 

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখির ঝড়।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

আস্‌ছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল,

সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙ্‌ল আগল।

মৃত্যু-গহন অন্ধ-কূপে

মহাকালের চণ্ড-রূপে–

ধূম্র-ধূপে

বজ্র-শিখার মশাল জ্বেলে আস্‌ছে ভয়ঙ্কর–

ওরে ঐ হাস্‌ছে ভয়ঙ্কর!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঝামর তাহার কেশের দোলায় ঝাপ্‌টা মেরে গগন দুলায়,

সর্বনাশী জ্বালা-মুখী ধূমকেতু তার চামর ঢুলায়!

বিশ্বপাতার বক্ষ-কোলে

রক্ত তাহার কৃপাণ ঝোলে

দোদুল্‌ দোলে!

অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর–

ওরে ঐ স্তব্ধ চরাচর!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা ভয়াল তাহার নয়ন-কটায়,

দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায়!

বিন্দু তাহার নয়ন-জলে

সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে

কপোল-তলে!

বিশ্ব-মায়ের আসন তারি বিপুল বাহুর ‘পর–

হাঁকে ঐ ‘জয় প্রলয়ঙ্কর!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

মাভৈ মাভৈ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে!

জরায়-মরা মুমূর্ষদের প্রাণ লুকানো ঐ বিনাশে!

এবার মহা-নিশার শেষে

আস্‌বে ঊষা অরুণ হেসে

করুণ বেশে!

দিগম্বরের জটায় লুটায় শিশু চাঁদের কর,

আলো তার ভর্‌বে এবার ঘর।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঐ সে মহাকাল-সারথি রক্ত-তড়িত-চাবুক হানে,

রণিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন বজ্র-গানে ঝড়-তুফানে!

খুরের দাপট তারায় লেগে উল্কা ছুটায় নীল খিলানে!

গগন-তলের নীল খিলানে।

অন্ধ করার বন্ধ কূপে

দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে

পাষাণ স্তূপে!

এই তো রে তার আসার সময় ঐ রথ-ঘর্ঘর–

শোনা যায় ঐ রথ-ঘর্ঘর।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? –প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!

আসছে নবীন– জীবন-হারা অ-সুন্দরে কর্‌তে ছেদন!

তাই সে এমন কেশে বেশে

প্রলয় বয়েও আস্‌ছে হেসে–

মধুর হেসে!

ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঐ ভাঙা-গড়া খেলা যে তার কিসের তবে ডর?

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!–

বধূরা প্রদীপ তুলে ধর্‌!

কাল ভয়ঙ্করের বেশে এবার ঐ আসে সুন্দর!–

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

 

 

ক্ষেতে প্রান্তরে

জীবনানন্দ দাশ

ঢের সম্রাটের রাজ্যে বাস ক’রে জীব
অবশেষে একদিন দেখেছে দু–তিন ধনু দূরে
কোথাও সম্রাট নেই, তবুও বিপ্লবী নেই, চাষা
বলদের নিঃশব্দতা ক্ষেতের দুপুরে।
বাংলার প্রান্তরের অপরাহ্ন এসে
নদীর খাড়িতে মিশে ধীরে
বেবিলন লণ্ডনের জন্ম, মৃত্যু হ’লে —
তবুও রয়েছে পিছু ফিরে।
বিকেল এমন ব’লে একটি কামিন এইখানে
দেখা দিতে এলো তার কামিনীর কাছে;—
মানবের মরণের পরে তার মমির গহ্বর
এক মাইল রৌদ্রে প’ড়ে আছে।


আবার বিকেলবেলা নিভে যায় নদীর খাড়িতে;
একটি কৃষক শুধু ক্ষেতের ভিতরে
তার বলদের সাথে সারাদিন কাজ ক’রে গেছে;
শতাব্দী তীক্ষ্ম হ’য়ে পড়ে।
সমস্ত গাছের দীর্ঘ ছায়া
বাংলার প্রান্তরে পড়েছে;
এ দিকের দিনমান—এ-যুগের মতো শেষ হ’য়ে গেছে,
না জেনে কৃষক চোত-বোশেখের সন্ধ্যার বিলম্বনে প’ড়ে
চেয়ে দেখে থেমে আছে তবুও বিকাল;
ঊনিশশো বেয়াল্লিশ ব’লে মনে হয়
তবুও কি ঊনিশশো বিয়াল্লিশ সাল।


কোথাও শান্তির কথা নেই তার, উদ্দীপ্তিও নেই;
একদিন মৃত্যু হবে, জন্ম হয়েছে;
সূর্য উদয়ের সাথে এসেছিলো ক্ষেতে;
সূর্যাস্তের সাথে চ’লে গেছে।
সূর্য উঠবে জেনে স্থির হ’য়ে ঘুমায়ে রয়েছে।
আজ রাতে শিশিরের জল
প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতি নিয়ে খেলা করে;
কৃষাণের বিবর্ণ লাঙ্গল,
ফালে ওপড়ানো সব অন্ধকার ঢিবি,
পোয়াটাক মাইলের মতন জগৎ
সারাদিন অন্তহীন কাজ ক’রে নিরুৎকীর্ণ মাঠে
পড়ে আছে সৎ কি অসৎ?


অনেক রক্তের ধ্বকে অন্ধ হয়ে তারপর জীব
এইখানে তবুও পায়নি কোনো ত্রাণ;
বৈশাখের মাঠের ফাটলে
এখানে পৃথিবী অসমান।
আর কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।
কেবল খড়ের স্তুপ প’ড়ে আছে দুই-তিন মাইল,
তবু তা সোনার মতো নয়;
কেবল কাস্তের শব্দ পৃথিবীর কামানকে ভুলে
করুণ, নিরীহ, নিরাশ্রয়।
আর কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।
জলপিপি চ’লে গেলে বিকেলের নদী কান পেতে
নিজের জলের সুর শোনে;
জীবাণুর থেকে আজ কৃষক, মানুষ
জেগেছে কি হেতুহীন সম্প্রসারণে—
ভ্রান্তিবিলাসে নীল আচ্ছন্ন সাগরে?
চৈত্য, ক্রুশ, নাইন্টিথ্রি ও সোভিয়েট শ্রুতি-প্রতিশ্রুতি
যুগান্তের ইতিহাস, অর্থ দিয়ে কূলহীন সেই মহাসাগরে প্রাণ
চিনে চিনে হয়তো বা নচিকেতা প্রচেতার চেয়ে অনিমেষে
প্রথম ও অন্তিম মানুষের প্রিয় প্রতিমান
হ’য়ে যায় স্বাভাবিক জনমানবের সূর্যালোকে।

সাতটি তারার তিমির, ১৯৪৮ থেকে।

 

পঁচিশে বৈশাখ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

রাত্রি হল ভোর।

আজি মোর

জন্মের স্মরণপূর্ণ বাণী,

প্রভাতের রৌদ্রে-লেখা লিপিখানি

হাতে করে আনি

দ্বারে আসি দিল ডাক

পঁচিশে বৈশাখ।

দিগন্তে আরক্ত রবি;

অরণ্যের ম্লান ছায়া বাজে যেন বিষণ্ন ভৈরবী।

শাল-তাল-শিরীষের মিলিত মর্মরে

বনান্তের ধ্যান ভঙ্গ করে।

রক্তপথ শুষ্ক মাঠে,

যেন তিলকের রেখা সন্ন্যাসীর উদার ললাটে।

এই দিন বৎসরে বৎসরে

নানা বেশে ফিরে আসে ধরণীর ‘পরে—

আতাম্র আম্রের বনে ক্ষণে ক্ষণে সাড়া দিয়ে,

তরুণ তালের গুচ্ছে নাড়া দিয়ে,

মধ্যদিনে অকস্মাৎ শুষ্কপত্রে তাড়া দিয়ে,

কখনো বা আপনারে ছাড়া দিয়ে

কালবৈশাখীর মত্ত মেঘে

বন্ধহীন বেগে।

আর সে একান্তে আসে

মোর পাশে

পীত উত্তরীয়তলে লয়ে মোর প্রাণদেবতার

স্বহস্তে সজ্জিত উপহার—

নীলকান্ত আকাশের থালা,

তারি ‘পরে ভুবনের উচ্ছলিত সুধার পিয়ালা।

এই দিন এল আজ প্রাতে

যে অনন্ত সমুদ্রের শঙ্খ নিয়ে হাতে,

তাহার নির্ঘোষ বাজে

ঘন ঘন মোর বক্ষোমাঝে।

জন্ম-মরণের

দিগ্বলয়-চক্ররেখা জীবনেরে দিয়েছিল ঘের,

সে আজি মিলাল।

শুভ্র আলো

কালের বাঁশরি হতে উচ্ছ্বসি যেন রে

শূন্য দিল ভরে।

আলোকের অসীম সংগীতে

চিত্ত মোর ঝংকারিছে সুরে সুরে রণিত তন্ত্রীতে।

উদয়-দিক্‌প্রান্ত-তলে নেমে এসে

শান্ত হেসে

এই দিন বলে আজি মোর কানে,

‘অম্লান নূতন হয়ে অসংখ্যের মাঝখানে

একদিন তুমি এসেছিলে

এ নিখিলে

নবমল্লিকার গন্ধে,

সপ্তপর্ণ-পল্লবের পবনহিল্লোল-দোল-ছন্দে,

শ্যামলের বুকে,

নির্নিমেষ নীলিমার নয়নসম্মুখে।

সেই-যে নূতন তুমি,

তোমারে ললাট চুমি

এসেছি জাগাতে

বৈশাখের উদ্দীপ্ত প্রভাতে।

‘হে নূতন,

দেখা দিক্‌ আরবার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ।

আচ্ছন্ন করেছে তারে আজি

শীর্ণ নিমেষের যত ধূলিকীর্ণ জীর্ণ পত্ররাজি।

মনে রেখো, হে নবীন,

তোমার প্রথম জন্মদিন

ক্ষয়হীন—

যেমন প্রথম জন্ম নির্ঝরের প্রতি পলে পলে;

তরঙ্গে তরঙ্গে সিন্ধু যেমন উছলে

প্রতিক্ষণে

প্রথম জীবনে।

হে নূতন,

হোক তব জাগরণ

ভস্ম হতে দীপ্ত হুতাশন।

‘হে নূতন,

তোমার প্রকাশ হোক কুজ্ঝটিকা করি উদ্‌ঘাটন

সূর্যের মতন।

বসন্তের জয়ধ্বজা ধরি

শূন্য শাখে কিশলয় মুহূর্তে অরণ্য দেয় ভরি—

সেই মতো, হে নূতন,

রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন।

ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,

ব্যক্ত হোক তোমা-মাঝে অনন্তের অক্লান্ত বিস্ময়।’

উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে।

মোর চিত্তমাঝে

চির-নূতনেরে দিল ডাক

পঁচিশে বৈশাখ।

গ্রীষ্ম (ঐ এল বৈশাখ)

সুকুমার রায়

 

ঐ এল বৈশাখ, ঐ নামে গ্রীষ্ম,
খাইখাই রবে যেন ভয়ে কাঁপে বিশ্ব!
চোখে যেন দেখি তার ধুলিমাখা অঙ্গ,
বিকট কুটিলজটে ভ্রুকুটির ভঙ্গ,
রোদে রাঙা দুই আখি শুকায়েছে কোটরে,
ক্ষুধার আগুন যেন জ্বলে তার জঠরে!
মনে হয় বুঝি তার নিঃশ্বাস মাত্রে
তেড়ে আসে পালাজ্বর পৃথিবীর গাত্রে!
ভয় লাগে হয় বুঝি ত্রিভুবন ভষ্ম –
ওরে ভাই ভয় নাই পাকে ফল শস্য!
তপ্ত ভীষণ চুলা জ্বালি নিজ বক্ষে
পৃথিবী বসেছে পাকে, চেয়ে দেখ চক্ষে-
আম পাকে, জাম পাকে, ফল পাকে কত যে,
বুদ্ধি যে পাকে কত ছেলেদের মগজে!

বৈশাখী

ফররুখ আহমদ

“বৈশাখের মরা মাঠ পড়ে থাকে নিস্পন্দ যখন
নিষ্প্রাণ, যখন ঘাস বিবর্ণ, নিষ্প্রভ ময়দান,
যোজন যোজন পথ ধূলি-রুক্ষ, প্রান্তর, বিরান;
শুকনো খড়কুটো নিয়ে ঘূর্ণী ওঠে মৃত্যুর মতন;
সে আসে তখনি। তখনি তো ঘিরে ফেলে উপবন,
বন;চোখের পলকে, মুছে ফেলে ঘুমন্ত নিখিল
সে আসে বিপুল বেগে। কণ্ঠে তার সুরে ইস্রাফিল
বজ্রস্বরে কথা কয়, জানে না সে গম্ভীর বন্ধন।
মানে না সে আহাজারি বিশুষ্ক মাঠের, মানে না সে
পথের হাজার বাধা, অরণ্যের ক্লান্ত আর্তস্বর,
বিদ্যুৎ চমকে তার সাড়া জাগে সমস্ত আকাশে,
জেগে ওঠে বজ্র রবে এক সাথে নির্জিত প্রান্তর,
দিক দিগন্তের পথে চলে যায় নিমেষে খবর;
ধ্বংসের আহ্বান নিয়ে অনিবার্য সে আসে সে আসে।”

এবার নিঃশব্দ বাঁশির মতো ডাকি

মহাদেব সাহা

তোমাকে ডাকতে ডাকতে আমি মৌন পাহাড়, ডাকতে
ডাকতে উত্তাল সমুদ্র,
আমি তোমাকে ডাকতে ডাকতে মাতাল মৌমাছি,
ডাকতে ডাকতে নিস্তব্ধ আকাশ;
কোটি কোটি বছর আমি তোমাকে এভাবে ডাকছি
নদী শুকিয়ে গেলো, নগর ঘুমিয়ে পড়লো
পৃথিবীতে নেমে এলো শত শত শীতকাল,
আমি তোমাকে ডাকতে ডাকতে অস্থির জলপ্রপাতের
মতো গড়িয়ে পড়লাম।
এই জীবনে আর কতো ডাকা যায়, কতো হাহাকার
করা যায়?
আমি ডাকতে ডাকতে ভাঙাগলা নিঃসঙ্গ কোকিল,
ডাকতে ডাকতে বিষণ্ন হেমন্ত,
এবার শব্দ নয়, নিঃশব্দ বাঁশির মতো ডাকি।

বৈশাখ আবাহন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ

তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে

বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক

যাক পুরাতন স্মৃতি যাক ভুলে যাওয়া গীতি

অশ্রু বাষ্প সুদূরে মিলাক

মুছে যাক সব গ্লানি। মুছে যাক জরা

অগ্নিবাণে দেহে-প্রাণে শুচি হোক ধরা।

আরো আসছে…