১৭৯৪:শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মৃত্য

২৭এপ্রিল, ১৪বৈশাখ

শেরে বাংলা সাধারণ মানুষের কাছে “হক সাহেব” নামে পরিচিত ছিলেন।অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী(১৯৩৭-৪৩), পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬-৫৮) ইত্যাদি বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তফ্রন্ট গঠনে তিনি অন্যতম ভুমিকা পালন করেন।

প্রোফেসর আব্দুর রাজ্জাক একবার শেরে বাংলা একে ফজলুল হককে গিয়ে বলেন, আমি আপনের জীবনী লিখবার চাই । আপনে যদি পারমিশনটা দেন,কাজ শুরু করবার পারি।

শেরে বাংলা ফজলুল হক বললেন,  আমার জীবনী লিখতে চাও, নিশ্চয়ই তোমার কোন মতলব আছে।

আব্দুর রাজ্জাক বললেন, মতলব ত একটা অবশ্যই আছে।

ফজলুল হক বললেন, আগে হেইডা কও?

আব্দুর রাজ্জাক বললেন,আপনে যখন গাঁও গেরামে যান, মানুষের লগে এমন ব্যাবহার করেন, তারা মনে করে জনম ভইরা  আপনে গাঁও গেরামে কাটাইয়া তাগো সুখদুঃখে অংশ নিতাছেন। তারপর গাঁও গেরাম থিকা ঢাকা শহর আইসা আহসান মঞ্জিলে উইঠঠা নবাব হাবিবুল্লাহর লগে ঘুড়ি উড়ান, লোকজন দেইখা আপনারে নবাব বাড়ীর ফরজন্দ মনে করে। তারপর আবার কোলকাতা যাইয়া শ্যামাপ্রসাদের লগে গলা মিলাইয়া শ্যামাপ্রসাদরে যখন ভাই বইলা ডাক দেন কলিকাতার মানুষ চিন্তা করে আপনে শ্যামাপ্রসাদের আরেক ভাই। বাঙলার বাইরে এলাহাবাদ কিংবা লখনৌতে গিয়া মুসলিম নাইট নবাবগো লগে যখন বয়েন, দেখলে মনে অইব আপনে তাগোই একজন।এই এতগুলা ভুমিকা আপনে সাকসেসফুলভাবে অভিনয় করতে পারেন। এইডা তোহ মস্ত ক্ষমতা। এই ক্ষমতা স্যার অলিভার লরেন্সেও নাই। এই অভিনয় ক্ষমতার একটি ইনকোয়ারি আমি করবার চাই। আর নাইলে আপনার আসল গুণপনা কোথায় তা আমাগো অজানা নাই।

হক সাহেব হুংকার ছেড়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি আমার সম্পর্কে কি জান?

আব্দুর রাজ্জাক বললেন, আপনে সুন্দর বিশ্বাসযোগ্য মিছা কথা কইবার পারেন।

এই কথা শোনার পর হক সাহেব হা হা করে হেসে উঠেছিলেন।

আহমদ ছফার “যদ্যপি আমার গুরু ” বই থেকে নেয়া।

অনুসন্ধান

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages

আর্কাইভ

বায়ুদূষণের মাত্রা

সর্বাধিক পঠিত

Sorry. No data so far.