সর্দিতে করণীয়

গরমেই সর্দি বা ঠান্ডা বেশি হয়। নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি পড়া, নাক বন্ধ, হাঁচি, কাশি, মাথাব্যথা, জ্বর, কাঁপুনি—এগুলো হলো এর প্রধান লক্ষণ। ঋতু বদলানোর সাথে সাথে আবহাওয়া পরিবর্তন, গরমে ঘাম, রোদের তাপ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে বেরিয়েই প্রচণ্ড গরম, আবার প্রচণ্ড গরম থেকে এসে খুব ঠান্ডা পানি বা বরফপানি পান করা—এই সবকিছু মিলিয়ে সর্দির হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

অ্যালার্জির কারণ ছাড়াও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাইরাস এই স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য দায়ী। হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে নাক-মুখ থেকে অন্তত ছয় ফুট দূরত্ব পর্যন্ত ছড়াতে পারে এই ভাইরাসগুলো। আর প্রকৃতিতে বেঁচে থাকতেও পারে বেশ কয়েক ঘণ্টা। এ ছাড়া হাত দিয়ে নাক মোছা বা নাক-মুখে হাত দেওয়ার পর সেই হাত দিয়েই অন্যজনের কাছে ছড়ায়। স্কুল, কলেজ, অফিস বা দোকানপাটের দরজার হাতল, টেবিলের কোণ, রিকশা- গাড়ির হ্যান্ডেল, টেলিফোন ও ব্যবহূত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র দিয়েই ছড়ায় বেশি। প্রচুর পানি পান করা উচিত। কোমল পানীয়, অ্যালকোহল বা এনার্জি ড্রিংক এড়িয়ে চলা উচিত; দরকার শুধুই পানি বা ফলের রস। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম সুস্থতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গলা ব্যথা বা অস্বস্তিভাব কাটাতে আধকাপ কুসুম গরম পানিতে আধা চামচ লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করা যেতে পারে,  প্রচুর ভিটামিন সি ও জিংকযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। গরম স্যুপ, গরম পানিতে লেবুর রস বেশ উপকারী। আক্রান্ত হলে নিজের ব্যবহার্য বস্তু যেমন তোয়ালে, রুমাল, সেলফোন কাউকে ধরতে দেয়া ঠিক না। হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখা দরকার। শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের কাছ থেকে দূরে থাকা উচিত।