স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

যেকোনো রোগে ভুগে কষ্ট পাওয়ার চাইতে আগে থেকে রোগ মুক্ত থাকার ও প্রতিরোধের চেষ্টা করাটাই ভাল। ফলে আমাদেরকে এসমস্ত বিষয় মাথায় রেখে সুস্থ থাকার চেষ্টা করা উচিত।

এই সময়ে সাধারণত গরমের কারণে নানা সাধারণ ঘামাচি, সর্দিজ্বর থেকে শুরু করে ইনফ্লুয়েঞ্জা, জলবসন্ত, ডায়রিয়া, জন্ডিস, সাইনাসে প্রদাহ, টনসিলে প্রদাহ, কানের নানাবিধ সমস্যাসহ মাত্রাতিরিক্ত গরম বা তাপদাহের কারণে, পানিশূন্যতা ও হিট স্ট্রোক হতে পারে। কিছু নিয়ম মেনে চললেই এসব রোগ থেকে বেচে থাকা যায়।

গরমের এই ঋতুতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে, তবে পানির বদলে রোদ বা গরমের ভেতর তৃষ্ণা মেটাতে বিভিন্ন কোমল পানীয় পান করলে পানির অভাব পূরণ না হয়ে উলটো পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। শরীরের জন্য দরকারি পানির অভাব পূরণ করে সুস্থ থাকতে ডাব, শশা, গাজরের মত প্রাকৃতিক উৎসগুলোর উপরে নির্ভর করা যেতে পারে। এগুলোর মাধ্যমে পানির চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি শরীরের জন্য দরকারি উপাদানের চাহিদাও পূরণ করা যাবে। মৌসুমি ফল, যেমনঃ আম, জাম, কাঠাল, লিচু খাওয়া উচিত; এগুলোতে শরীরের জন্য দরকারি অনেক উপাদান থাকে, যেগুলো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। মৌসুমি শাকসবজিও শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, রাসায়নিক বিষমুক্ত শাক-সবজি এবং ফল খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত; নাহলে হিতে বিপরীত ঘটতে পারে।

অতিরিক্ত রোদ বা গরম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। রাস্তায় চলাচলের সময় সবসময় সাথে পানি ও ছাতা রাখা অথবা রাস্তার পাশে গাছ থাকলে তার ছায়া ধরে চলা এবং ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করা উচিত। গরম বা রোদ থেকে ফিরেই ফ্যান বা এসি ব্যবহার না করে, ঘাম মুছে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে অপেক্ষা করা উচিত। হাত-মুখ ধুয়ে বাইরের ধুলা-দূষণ থেকেও নিজেকে মুক্ত করে নিলে, সর্দি, সাইনাস ও অন্যান্য ঠান্ডা জনিত স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে দূরে থাকা যাবে।  বাইরে থাকার সময় ধূলা থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত, দুষিত ধুলা শ্বাসনালী ও ফুসফুসে সমস্যা তৈরি করতে পারে ও দীর্ঘমেয়াদী সর্দিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং সাইনাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।