হিট স্ট্রোকে করণীয়

কড়া রোদের মধ্যে কাজ করা উচিত নয়। এর ফলে হিট স্ট্রোক হতে পারে।  শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা পায়। এর পরের ধাপে  দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে।

গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিট স্ট্রোকের বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়। যেমন, হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা। সাদা বা হালকা রঙের সুতি কাপড় হলে ভালো, যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা উচিত, বাইরে বের হলে মাথার জন্য চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করা । যাঁরা বাইরে কাজ করেন, তাঁরা মাথায় ছাতা বা মাথা ঢাকার জন্য কাপড়জাতীয় কিছু ব্যবহার করা উচিত। গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমন-খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি ইত্যাদিও পান করা যেতে পারে। অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে, তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী পানীয় যেমন-চা ও কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত।

হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে, শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রিº ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়, ঘাম বন্ধ হয়ে যায়, ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়, নিশ্বাস দ্রুত হয়, নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়, রক্তচাপ কমে যায়, খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, শকেও চলে যায়, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে চলে যেতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে, ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলতে হবে বা গোসল করতে হবে, শরীর বেশি খারাপ হলে দ্রুতই চিকিৎসা নেয়া উচিত।