১৮৯৪ঃ মাস্টারদা সূর্য সেনের জন্ম

৭ চৈত্র।। ২১ মার্চ

মাস্টারদা সূর্য সেন ছিলেন ভারতের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন এর একজন অগ্নিবিপ্লবী এবং চট্রগ্রাম বিদ্রোহ এর মহানায়ক । তার জন্ম চট্রগ্রাম এর রাউজান এর নোয়াপাড়া গ্রামে । শৈশবে পিতা হারানো সূর্যসেনকে বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন এবং ক্ষুদিরাম বসুর জীবনী বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করে । ১৯১০ সালে মায়ের মৃত্যুর পর সূর্যসেন গুপ্ত সমিতিতে নাম লিখিয়ে দেশমাতা কে ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্ত করার কাজে নিয়োজিত হন তিনি । বিপ্লবী কাজের পাশাপাশি গনিতে দক্ষ থাকার কারণে তিনি স্কুলের অনেক  ছাত্রকে পড়াতেন,যার কারণে তিনি সবার কাছে মাষ্টারমশাই হিসেবে পরিচিত হন । ১৯১২ সালে এন্ট্রান্স পাসের পর তিনি চট্রগ্রাম এর আই এ কলেজে ভর্তি হন । এখানে অধ্যয়নকালে শিক্ষকদের সংস্পর্শে বৈপ্লবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অনুশীলন সমিতিতে যুক্ত হন । আই এ পাস এর পর তিনি বিপ্লবী যুগান্তর দলের ঢুকেন । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বিপ্লবীদের ব্যাপক ধরপাকড় ও গ্রেফতার এর কারণে মাস্টারদা সূর্যসেন

এর কাধে বিপ্লবী দল ও আন্দোলন সংগঠিত করার দায়িত্ব এসে পড়ে । ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধীর আহবানে সকল বিপ্লবী সংগঠন অসহযোগ আন্দোলন এ প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে । সূর্য সেন সহ অন্যান্য বিপ্লবিগন এই কাজে শামিল হন ।  বিশ্বযুদ্ধের শেষে বিপ্লবী দল যুগান্তর ও অনুশীলন সমিতির মধ্যে আদর্শিক মতভেদ দেখা দিলে সূর্যসেন এই মতপার্থক্য ও ভুল বুঝাবুঝি বন্ধের চেষ্টা চালান । গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার এর পর বিপ্লবিরা গণআন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেগ নেন । এ সময় তারা অর্থ সংগ্রহের জন্য ডাকাতির আশ্রয় নিয়েছিলেন । এসময় পুলিশ বিপ্লবীদের আস্তানায় হানা দিলে বিপ্লবীদের সাথে পুলিশ এর খণ্ডযুদ্ধ হয় । যা নাগরথানা পাহাড় খণ্ড যুদ্ধ নামে পরিচিত । এ সময় সূর্যসেন গ্রেফতার হলেও পর্যাপ্ত প্রমান এর অভাবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় । ১৯২৬ সালে আবারো তিনি গ্রেফতার হন মিথ্যা মামলায় । ১৯২৮ এ তিনি মুক্তি পেলেও তাকে নজরবন্দী করে রাখা হয় । ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি সশস্ত্র অভ্যুত্থান এর অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশে চট্রগ্রাম অস্ত্রাগার দখল করেন এবং বিদ্রোহ ঘোষণা করেন । জালালাবাদ পাহাড়ে পুলিশ এর সাথে সূর্যসেন এর নেতৃত্তে বিপ্লবীদের এক রুদ্ধশ্বাস সম্মুখ যুদ্ধ হয় ।  যুদ্ধে বিপ্লবীরা জয়ী হয় । এরপর মাস্টারদার পরিকল্পনায় পাহাড়তলির ইউরোপিয়ান ক্লাবে হামলা চালানো হয় । ১৯৩৩ সালে তিনি আত্মগোপনে থাকার সময় গ্রেফতার হন । গ্রেফতার এর পর তার উপর বর্বর অত্যাচার চালানো হয় । ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শোষকেরা মাস্টারদা ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

অনুসন্ধান

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages

আর্কাইভ

বায়ুদূষণের মাত্রা

সর্বাধিক পঠিত

Sorry. No data so far.