সাইনোসাইটিসে করনীয়

সাইনাস হল নাকের চারপাশের অস্থিগুলোর পাশে বাতাসপূর্ণ কুঠরি। মাথা হালকা রাখা, মস্তিষ্ককে আঘাত থেকে রক্ষা করা, কণ্ঠস্বর সুরেলা রাখা, দাঁত ও চোয়াল গঠনে সহায়তা করাই হল সাইনাসের কাজ । যখন সাইনাস স্ফীত হয়ে যায় এবং এর কারণে অসহ্য যন্ত্রণা হয় তখন তাকে সাইনোসাইটিস বলে।

দুই ধরণের সাইনোসাইটিস দেখা যেতে পারে।

অ্যাকিউট সাইনোসাইটিসঃ  ৭-১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে।

ক্রনিক সাইনোসাইটিসঃ  যদি তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে সাইনোসাইটিস থাকে।

কারণঃ

ঠাণ্ডা ও ভেজা পরিবেশ, ধোঁয়া, ধূলোবালি, বদ্ধ ঘর ইত্যাদি স্থানে থাকলে, অ্যালার্জি থাকলে সাইনোসাইটিস রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

সিম্পটমঃ

মাথাব্যথাসহ চোখের নিচে এবং কপালে ব্যথা অনুভব করা। এছাড়া মুখমণ্ডল ও মাথার বিভিন্ন অংশে ব্যাথা হতে পারে।

চোখের নিচের কিংবা উপরের অংশের পাতা ফুলে যেতে পারে।

নাকের ভেতরের মাংস ফুলে যেতে পারে, নাকের হাড় বাঁকা থাকতে পারে।

এছাড়া গা ম্যাজম্যাজে ভাব, জ্বর ,শরীর ব্যথা ইত্যাদি থাকতে পারে।

কারণঃ

নাকের ইনফেকশন

দাঁতের ইনফেকশন

নাকের পলিপ

জন্মগতভাবে নাকের পেছনের ছিদ্রটি বন্ধ থাকা ইত্যাদি

দূষিত পানি কিংবা উচ্চমাত্রার ক্লোরিনযুক্ত পানিতে গোসল করলে সাইনোসাইটিস হবার সম্ভাবনা থাকে

করনীয়ঃ

পানি গরম করে পানিতে লেবুর রস, পুদিনা পাতা আর আদা কুঁচি মিশ্রিত করে স্টিম বাথ বা বাষ্পীয় প্রশ্বাস দিনে অন্তত দুইবার গ্রহণ করা।

প্রতিদিন ২-৪ কোয়া রসুন ২ চা চামচ মধুর সঙ্গে দিনে ২ বার খাওয়া এটি অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

প্রতিদিন ১ চা চামচ পেঁয়াজের রস ১ চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকার হয়। ৫ গ্রাম গোলমরিচের গুড়ো ১ গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে খাওয়া ভালো।

প্রতিদিন ১ চা চামচ আদার রস ১ চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া। এটি সাইনোসাইটিসজনিত মাথাব্যথা দূর করে।

যষ্টিমধু খাওয়া যেতে পারে। এটি অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে কাজ করে এবং শ্বসনতন্ত্রের ব্যথা দূর করে।

পুদিনা তেল ব্যবহার করা। এটি সাইনোসাইটিসজনিত মাথাব্যথা, নাকের ব্যথা দূর করতে কার্যকর।

ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনজনিত সাইনোসাইটিস দূর করতে ইউক্যালিপটাস তেল অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

ঘন শ্লেষ্মা বা সিক্রেশনগুলো বের করে ফেলতে হবে। নাক পরিষ্কার রাখা জরুরি।

দুই নাক একসঙ্গে ঝাড়া যাবেনা।

দৈনিক খাবারে রসুনের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন।

ব্যথার সময় খিদে পেলে দ্রুত খেয়ে নেয়া, নয়তো ব্যথা বেড়ে যায়।

সামাজিক সতর্কতাঃ

অ্যালার্জি থেকে সাইনোসাইটিস হবার সম্ভাবনা থাকায় অ্যালার্জি ছড়াবার সামাজিক কারণগুলো চিহ্নিত করে এবং তা সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করা দরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ ডা. মার্ক অ্যারোনিকার মতে, অ্যালার্জির কারণে স্নায়ুতন্ত্রে ব্লকেজের সৃষ্টি হয়, ফলে মাথাব্যথা ও সাইনাসের মতো আরও সমস্যা দেখা দেয়। অ্যালার্জির কারণে ‘সাইটোকাইন’ নামক রাসায়নিকের নিঃসরণ ঘটে।, সাইটোকাইন ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে, তবে এটি মানুষের চিন্তাশক্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ফলে দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলমান থাকলে চিন্তা-ভাবনার শক্তি হ্রাস হতে পারে।

প্রদায়কঃ হাসিবুল হাসান শান্ত

অনুসন্ধান

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages

আর্কাইভ

বায়ুদূষণের মাত্রা

সর্বাধিক পঠিত

Sorry. No data so far.