বিপ্লবী সোমেন চন্দ্র

সোমেন চন্দ ছিলেন বাংলার একজন উদীয়মান লেখক এবং বাংলার ফ্যাসিবাদবিরোধী কথাসাহিত্যিক । সাহিত্যিক হিসেবে তার রচনার মধ্যে ফুটে উঠেছে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ এর শ্রেণীবৈষম্য ও সংগ্রাম । সোমেন তার কমিউনিস্ট জীবনদর্শন দিয়ে তারুণ্যের গান সৃষ্টি ও বিদ্রোহের আগুন জ্বেলে সাহিত্যে বিপ্লব ঘটাতে চেয়েছিলেন । সোমেন চন্দ এর জন্ম ১৯২০ সালের ২৪ মে , ঢাকার নিকটবর্তী তেঘরিয়া গ্রামে । তার শৈশব-কৈশোর কাটে পুরান ঢাকার তাঁতিবাজারে ।

প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভর্তি হন মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুলে । ১৯৩৭ সালে তিনি প্রত্যক্ষভাবে কম্যুনিস্ট আন্দোলন এ যুক্ত হন । এসময় তিনি কম্যুনিস্টভাবাপন্ন প্রগতি পাঠাগার এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন । দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দর্শন শিক্ষা নেন । ১৯৪১ সালে নাৎসি জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমন করলে ভারতবর্ষের প্রগতিশীল সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে গঠিত ‘সোভিয়েত সুহ্নদ সমিতি হিটলার এর বিরুদ্ধে জনযুদ্ধ ঘোষণা করে ।  সোমেন চন্দের শ্রম ও অধ্যবসায় অল্পদিন এর মধ্যে ঢাকায় ফ্যাসিবাদবিরোধী জনমত তৈরি করতে সক্ষম হন । ১৯৪২ সালে ঢাকায় ফ্যাসিবাদবিরোধী সম্মেলন এর আহবান জানানো হয় । বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি এই সম্মেলন বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে । সোমেন চন্দ শ্রমিকদের মিছিল নিয়ে সম্মেলন এ যোগ দেওয়ার সময় আতাতয়ির ছুরিকাঘাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।