১৮৯৬:কাঙ্গাল হরিনাথের মৃত্যু


১৬এপ্রিল, ৩রা বৈশাখ

জন্ম ১৮৩৩, কুষ্টিয়ায়। সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। পত্রিকা ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (প্রথম প্রকাশ ১৮৬৩) এর জন্য বিখ্যাত। ঊনবিংশ শতকের এই সাংবাদিক একটি ভার্নাকুলার স্কুল ও কুমারখালিতে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সেখানে শিক্ষা বিস্তারের জন্য অবৈতনিক শিক্ষকরূপে কাজ করেন। তার প্রচেষ্টায় কুমারখালিতে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তার পত্রিকায় সাহিত্য, বিজ্ঞান ও দর্শন ছাড়াও কুসিদজীবি নীলকরদের অত্যাচারের সংবাদ জমিদার ও ইংরেজদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরেও প্রচারিত হত। পরে পত্রিকা ছাপানোর সুবিধার্থে ছাপাখানা স্থাপন করলেও আর্থিক কারণে ও সরকারের মুদ্রণ শাসনব্যবস্থার জন্য পত্রিকাটি বন্ধু হয়ে যায়। তিনি একই সাথে ‘কাঙাল ফিকির চাঁদের দল’ নামে একটি বাউল দল গঠন করেন। এই দলে তিনি ‘কাঙাল’ ভণিতায় গান লিখতেন পরে এই নামটি তার নামের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।  হরিনাথের মোট গ্রন্থ ১৮টি। তন্মধ্যে উলেখযোগ্য কয়েকটি হলো: বিজয়বসন্ত (১৮৫৯), চারুচরিত্র (১৮৬৩), কবিতাকৌমুদী (১৮৬৬), বিজয়া (১৮৬৯), কবিকল্প (১৮৭০), অক্রূর সংবাদ (১৮৭৩), সাবিত্রী নাটিকা (১৮৭৪), চিত্তচপলা (১৮৭৬), কাঙালের ব্রহ্মান্ডবেদ (১৮৮৭-৯৫), মাতৃমহিমা (১৮৯৬) ইত্যাদি।

কাঙাল হরিনাথের ভক্তিমূলক গানঃ

ওহে (হরি) দিন তো গেল, সন্ধ্যা হল, পার কর আমারে।
তুমি পারের কর্তা, শুনে বার্তা, ডাকছি হে তোমারে।।

আমি আগে এসে, ঘাটে রইলাম বসে
(ওহে, আমায় কি পার করবে নাহে, আমায় অধম

বলে)
যারা পাছে এল, আগে গেল, আমি রইলাম পড়ে।।

যাদের পথ-সম্বল, আছে সাধনার বল,
(তারা পারে গেল আপন বলে হে)
(আমি সাধনহীন তাই রইলেম পড়ে হে)
তারা নিজ বলে গেল চলে, অকুল পারাবারে।।

শুনি, কড়ি নাই যার, তুমি কর তারেও পার,
(আমি সেই কথা শুনে ঘাটে এলাম হে)
( দয়াময় ! নামে ভরসা বেঁধে হে )
আমি দীন ভিখারী, নাইক কড়ি, দেখ ঝুলি ঝেড়ে।।

আমার পারের সম্বল, দয়াল নামটি কেবল,
(তাই দয়াময় বলে ডাকি তোমায় হে)
(তাই অধমতারণ বলে ডাকি হে)
ফিকির কেঁদে আকুল, পড়ে অকূল সাঁতারে পাথারে।।|

গানটি শুনতেঃ https://www.youtube.com/watch?v=31GtNjxRECQ

সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

অনুসন্ধান

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages

আর্কাইভ

বায়ুদূষণের মাত্রা

সর্বাধিক পঠিত

Sorry. No data so far.