রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র চুক্তি, লাভ-ক্ষতির হিসাব

২০ শে এপ্রিল ২০১৩; ৭ই বৈশাখ ১৪২০ বঙ্গাব্দ, ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে বাগেরহাটের রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য তিনটি চুক্তি সই হয়। 

বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে ক্ষুন্ন করে অসম চুক্তি ও পরিবেশ ঝুঁকির বিবেচনায় সারাদেশে একাধিক কর্মসুচি নেওয়া শুরু করে- তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। লং-মার্চ, রোড-মার্চ, অবস্থান কর্মসূচী, মহাসমাবেশ, সাইকেল মিছিল, ছবি আঁকা, নতুন নতুন গান, কবিতা ইত্যাদি কর্মসূচী মিলিয়ে বাঁচাও সুন্দরবন ট্যাগ লাইন নিয়ে এ আন্দোলন তরুনদের অংশগ্রহণে নানা মাত্রা যোগ করে।

এ চুক্তির অর্থনৈতিক দিকগুলো নিয়ে প্রচুর আলোচনা সমালোচনা প্রথম থেকেই চলে আসছে।

রামপাল চুক্তির অসঙ্গতি ও লাভ-ক্ষতি
বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) বা বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুৎ কোম্পানি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ জন্য ভারতের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক থেকে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ নেয়া হবে।  এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫০ শতাংশ করে মালিকানা দুই দেশের হলেও ঋণের পুরোটা দায়ভার থাকবে বাংলাদেশের ওপর। বাংলাদেশ সরকার হবে এ ঋণের গ্যারান্টি হবে। কোন কারণে প্রকল্প বন্ধ/লোকসান, কিংবা কিস্তির অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। যৌথ মালিকানার কোম্পানি হলেও এক্সিম ব্যাংক ঋণের দায় বাংলাদেশের ওপর চাপিয়েছে। এ প্রকল্প থেকে শুধু মুনাফার অর্ধেকই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পাবে না, ঠিকাদারি কাজ, কয়লা সরবরাহের কাজ সবই পাবে। সেখানেও ভারত লাভবান হবে।

শর্তে যা আছে:

– এক্সিম ব্যাংকের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, ১৬০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০ বছরে। সাত বছর পর থেকে ঋণের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে।
– ২৭টি অর্ধবার্ষিক কিস্তিতে এক্সিম ব্যাংককে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের সুদের হার হবে লন্ডন আন্তব্যাংক হারের (লাইবর) সঙ্গে ১ শতাংশ সুদ যোগ করে। গত জুন মাসের হিসাবে লাইবর দশমিক ৯৩ শতাংশ।
– এ ছাড়া ঋণের অব্যবহৃত বা ছাড় না করা অর্থের ওপর বার্ষিক দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।
– ঋণ প্রক্রিয়াকরণের জন্য ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক মাশুল ২ লাখ ডলারও দিতে হবে বিআইএফপিসিএলকে।
– প্রকল্পটি বাংলাদেশের স্বার্থে তৈরী হয়েছে প্রকল্পটি এর উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশই কিনবে বাজার মূল্যের সাথে মুনাফা যোগ করে।
– এক্ষেত্রে কোন ভূর্তকি দেয়া হবে না।
– মূল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তৈরি করতে খরচ হবে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। কেবল- টাউনশিপ (ছোট শহর) নির্মাণে খরচ হবে ১০ কোটি ডলার।

২০১৯ সালের মধ্যে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। গত ১২ জুলাই ঢাকায় মূল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যাল লিমিটেডের (ভেল) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বিআইএফপিসিএল।

আরো জানতে,

অঙ্গীকার ভেঙে রামপালে পরোক্ষ অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তির অসঙ্গতিঃ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশের ক্ষতি

রামপাল: বিভ্রান্তির অবসান হোক

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র যে কারণে সুন্দরবনের জন্য বিপদজ্জনক

রামপালে কী হচ্ছে”- সিবিএস সামাজিক সংলাপ।। আনু মুহাম্মদের বক্তব্য দেখতেঃ

এই আন্দোলন ও সুন্দরবন সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্র একটি আর্কাইভ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, লোকবল ও অর্থ সংকটে যা ভালভাবে আগাতে পারছে না, এই প্রকল্পে যদি আপনি স্বেচ্ছাসেবক গবেষক/কর্মী/কন্ট্রিবিউটর হিসেবে যুক্ত হতে চান তাহলে মেইল করুনঃ cbsdhaka@gmail.com

আর্কাইভটি দেখতে ভিজিট করুনঃ sundarbans.cbsbd.org